
ডোনাল্ড ট্রাম্প মানেই ভিন্ন কিছু। এবার ক্ষমতায় আসার পর নিজের চরিত্র ভালো করেই চেনাচ্ছেন মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট। একের পর এক নিচ্ছেন দুর্দান্ত সব সিদ্ধান্ত। ঝেটিয়ে বিদায় করছেন অবৈধ অভিবাসীদের। বন্ধ করতে যাচ্ছেন ইউক্রেন যুদ্ধ। কথা না শোনা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা। বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর বসিয়েছেন বাড়তি শুল্ক। এবার দিয়েছেন আরও এক চমকপ্রদ ঘোষণা। জানিয়েছেন, এখন থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করবেন আমেরিকার নাগরিকত্ব।
ট্রাম্পের নতুন এ ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে গোল্ড কার্ড। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান ইবি-ফাইভ ভিসা কর্মসূচির জায়গায় নতুন এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে এবং এটি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করবে। প্রতিটি গোল্ড কার্ডের মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি।
ট্রাম্পের ভাষ্য, আমরা গোল্ড কার্ড বিক্রি করতে যাচ্ছি। আর সে কার্ডের মূল্য ধরা হবে ৫০ লাখ ডলার। এটি আপনাদের গ্রিন কার্ডের সুবিধা দেবে এবং এটি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি পথ হতে যাচ্ছে। ধনী ব্যক্তিরা এই কার্ডটি কিনে আমাদের দেশে আসবেন। গোল্ড কার্ড ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী অধিবাসী হতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, রুশ ধনকুবেররাও এ গোল্ড কার্ড পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, সম্ভবত। আরে, আমি কিছু রুশ ধনকুবেরকে চিনি, যাঁরা বেশ দারুণ মানুষ।
বিদ্যমান ইবি-ফাইভ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিদেশিদের গ্রিন কার্ড দেওয়া হয়ে থাকে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সাংবাদিকদের বলেন, ইবি-ফাইভ কর্মসূচি এটা একেবারেই বাজে পদ্ধতি, এটা মিথ্যা ও জালিয়াতিতে ভরা। এটি হলো কম দামে গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি উপায়। তাই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই ধরনের হাস্যকর ইবি-ফাইভ কর্মসূচি যেন আমরা শেষ করে দিই। এর জায়গায় আমরা ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ আনতে যাচ্ছি।