
রাজধানী জুড়ে সেনা সদস্যদের ঢাকায় সেনা সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে। এর আগে বেশ কিছু দিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযান চলছিল।
শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বাড়তি টহলের পাশাপাশি তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী অবশ্য বলছেন, এই তৎপরতা সেনা সদস্যদের ‘নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।’
শুক্রবার দিনের বিভিন্ন সময় রামপুরা, শান্তিনগর, কাকরাইল, জাতীয় প্রেসক্লাব, বায়তুল মোকাররম, মহাখালী, বিজয় সরণি, গুলশান, খিলক্ষেত এলাকায় চৌকি বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে সেনা সদস্যদের।
যৌথ বাহিনীর অভিযানের আওতায় পরিচালিত এসব চৌকিতে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গহণ করলেও দেশজুড়ে সেনা মোতায়েন থাকে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৬০ দিনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেয় সরকার। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে নৌ-বাহিনী ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এরপর দুই দফায় তাদের সেই ক্ষমতার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, যা ১৫ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলি-গলিতে সেনা সদস্যদের বাড়তি টহলও ছিল চোখে পড়ার মত।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও কমফোর্ট ইরোর নেতৃত্বে আসা একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে দলটির যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের আদালতে বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং গণ আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত দলটিকে নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল শিক্ষার্থী।
এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকাজুড়ে যৌথবাহিনীর ‘নিয়মিত অভিযানের’ অংশ হিসেবে সেনাসদস্যদের বাড়তি কার্যক্রম দেখা গেল।