০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২০ চৈত্র ১৪৩১ 

রাজনীতি

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে: মির্জা ফখরুল

নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আদৌ এই সরকার নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তরিক কীনা তা নিয়ে মানুষের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। 

বুধবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। 

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা যিনি আছেন, তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্টদের লোকেরা যদি কেউ মাফ চেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় তাহলে তারা অংশ নিতে পারবে। এর থেকে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা এখন নিজেদের স্বার্থে ওই ফ্যাসিস্টদের জায়গা দিতে চায়। তার মানে কি আমরা এটা মনে করব যে, তারা সরকারে থেকে তাদের দল গোছানোর জন্য বিভিন্ন রকম কৌশল নিচ্ছেন। সেই কৌশল নিলে আমরা তা হতে দেবো না, এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না।’ এসময় কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব পরিস্কার করেই বলছি, অবশ্যই নতুন যথন রাজনৈতিক দল গঠন হবে। তাকে আমরা স্বাগত জানাব। তার মানে এই নয় যে, আপনারা সরকারে বসে, সরকারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দল গঠন করবেন, সেটা কখনই মেনে নেওয়া হবে না, জনগন মেনে নেবে না।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। 

 ‘অন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা হারালে আরেকটি নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে’-নিজের এই বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘কেনো বলেছিলাম তা এখন প্রমাণ হচ্ছে। তখন একজন (উপদেষ্টা) বলেছিলেন আমি এক-এগারোর দিকে নজর দিচ্ছি। আবারো হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই, যদি আবার কেউ সেই এক-এগারোর কথা চিন্তা করেন, গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে আবার এক দলীয় শাসন ফ্যাসিস্ট সরকারের দিকে যেতে চান তাহলে কখনোই জনগন তা মেনে নেবে না।’ 

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এখন একটা ক্রান্তিকালের লড়াইয়ে এসে পৌঁছেছি। এই লড়াইয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য এবং মেধার চর্চা করা। তোমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলতে শুরু কর। এটা তোমাদের দায়িত্ব। তোমরা মোবাইল ফোনে লড়াইটা চালাও, ওই জায়গায় যদি তোমরা লড়াই করতে পারো, তাহলে কেউ তোমাদের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।’ 

অনুষ্ঠানে স্লোগান না থাকায় খুশি হয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে খুব ভাল লাগছে যে, কোনো শ্লোগান হয়নি, হচ্ছে না। এটা আমার খুব আনন্দ লাগছে যে, আমার মনে হচ্ছে যে, এতো দিন যে কথা বলেছি অন্তত আজকে একটা বাস্তবায়ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ওমুক ভাই এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে-এটা দরকার নাই। আমাদের ভাই একজনই তারেক রহমান, আমাদের নেত্রী একজনই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের দার্শনিক আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা একজনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। মাঝখানে কোনো ভাই-টাই নাই।’ 

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিন বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিনের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।