০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২০ চৈত্র ১৪৩১ 

স্পোর্টস

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে ৫ বছর নিষিদ্ধ বাংলাদেশের স্পিনার

বাংলা ওয়াচ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:৫৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়ে ৫ বছর নিষিদ্ধ বাংলাদেশের স্পিনার

আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধি ভঙ্গের দায়ে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো বাংলাদেশের অফ স্পিনার সোহেলি আক্তারকে। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে তার শাস্তি।

আইসিসি মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুর্নীতিবিরোধী আইনের পাঁচটি ধারা লঙ্ঘন করেছেন সোহেলি। বাংলাদেশের হয়ে দুটি ওয়ানডে ও ১৩টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি।

ৎসংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোহেলির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ২০২৩ উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংক্রান্ত। তিনি সেই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন না। তবে দেশে থেকেই দলের এক ক্রিকেটারকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়াও আরও কয়েকটি অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়া ক্রিকেটারের অভিযোগের ভিত্তিতেই সোহেলির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ। শুরুতে অস্বীকার করলেও পরে নিজের দায় স্বীকার করে নেন ৩৬ বছর বয়সী স্পিনার। এই বিষয়ে পরবর্তীতে আর শুনানির প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

যে ধারাগুলো ভঙ্গের দায়ে সোহেলির শাস্তি হয়েছে, এর মধ্যে প্রথমটি হলো, কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা অন্য কোনো দিক অনুচিতভাবে প্রভাবিত করার জন্য বা এ ধরনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টায় জড়িয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো উপায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ পারফরম্যান্স করার মাধ্যমে ফিক্সিং বা ম্যাচ প্রভাবিত করার চেষ্টা।

এই প্রচেষ্টায় সফল হওয়ার জন্য নিজে বাজি ধরা, অন্য কাউকে দিয়ে ঘটানোর জন্য কোনো উপঢৌকন নেওয়া বা দেওয়ার জন্য সম্মত হওয়ার কথা বলা হয়েছে আরেকটি ধারায়।

কোনো ক্রিকেটার বা ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কাউকে নিয়ম ভাঙতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রলুব্ধ করা বা সহায়তার কথা উল্লেখ আছে আরেকটি অনুচ্ছেদে। ফিক্সিং বা দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়া বা প্রক্রিয়ার ব্যাপারটি আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিভাগকে অবহিত করেননি তিনি। এটিই আইনের লঙ্ঘন। এছাড়াও তদন্ত শুরু হওয়ার পর দুর্নীতিবিরোধী বিভাগের কাজে বাধা দেওয়া কিংবা প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

প্রায় দুই বছরের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে সব কিছু বিচার-বিবেচনায় এনে এসব নিয়মের লঙ্ঘন করা সোহেলিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আইসিসি।

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের শুরুর সময়ের ক্রিকেটারদের একজন সোহেলি। ২০০৯ সালে বিসিবি যখন নারী ক্রিকেটারদের প্রথমবার চুক্তির আওতায় আনে, সেই ১২ জনের মধ্যে ছিলেন এই স্পিনার।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার পরের বছরই লম্বা সময়ের জন্য থমকে যায় তার ক্যারিয়ার। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই দিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ বছর পর দলে ফেরেন তিনি। ফেরার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা হন। পরে ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে খেলেন তিনটি ম্যাচে। ওই টুর্নামেন্টের পর আর জাতীয় দলে দেখা যায়নি তাকে।